গঠন অনুসারে বাক্যের প্রকারভেদ
বাংলা ব্যাকরণে গঠন অনুসারে বাক্যকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এই ভাগগুলো বাক্যের ভেতরের গঠন, পদবিন্যাস এবং ক্রিয়াপদের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে করা হয়। বাক্যগুলো হলো – সরল বাক্য, জটিল বা মিশ্র বাক্য এবং যৌগিক বাক্য। নিচে এদের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সরল বাক্য
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা ও একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। এখানে একটিমাত্র কাজ সম্পন্ন হওয়ার ইঙ্গিত থাকে।
- সংজ্ঞা: একটি কর্তা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত বাক্য।
- বৈশিষ্ট্য: বাক্যে একটিই সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পায়।
- উদাহরণ:
সে বই পড়ে। (এখানে ‘সে’ কর্তা এবং ‘পড়ে’ সমাপিকা ক্রিয়া)
সে স্কুলে যায়।
আমি ভাত খাই।
বৃষ্টি হচ্ছে।
জটিল বা মিশ্র বাক্য
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য (main clause) এবং এক বা একাধিক অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্য (subordinate clause) থাকে, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। আশ্রিত খণ্ডবাক্যগুলো প্রধান খণ্ডবাক্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে এবং সাধারণত ‘যারা’, ‘যারা’, ‘যেখানে’, ‘যেহেতু’, ‘যদি’, ‘যাতে’ ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম বা অব্যয় দিয়ে যুক্ত থাকে।
- সংজ্ঞা: একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্যযুক্ত বাক্য।
- বৈশিষ্ট্য: আশ্রিত খণ্ডবাক্যগুলো প্রধান খণ্ডবাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে।
- উদাহরণ:
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সফল হয়। (এখানে ‘সে-ই সফল হয়’ প্রধান খণ্ডবাক্য এবং ‘যে পরিশ্রম করে’ আশ্রিত খণ্ডবাক্য)
যারা ভালো ছেলে, তারা বড়দের সম্মান করে।
যেখানে বাঘ আছে, সেখানে বাঘডাশা নেই।
যদি তুমি আসো, তবে আমিও যাবো।
যৌগিক বাক্য
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বা প্রধান খণ্ডবাক্য যখন কোনো সংযোজক অব্যয় (যেমন – এবং, আর, কিন্তু, অথবা, অথচ, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এখানে প্রতিটি খণ্ডবাক্যই স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
- সংজ্ঞা: দুই বা ততোধিক স্বাধীন খণ্ডবাক্য সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত বাক্য।
- বৈশিষ্ট্য: প্রতিটি খণ্ডবাক্য স্বাধীন এবং নিজেরা অর্থ প্রকাশে সক্ষম।
- উদাহরণ:
সে এলো এবং আমি চলে গেলাম। (এখানে ‘সে এলো’ এবং ‘আমি চলে গেলাম’ দুটিই স্বাধীন বাক্য, যা ‘এবং’ দ্বারা যুক্ত)
অন্ধকারে বাতি জ্বালো, নতুবা পথ দেখতে পাবে না।
সে অনেক চেষ্টা করলো, কিন্তু পাস করতে পারলো না।
সে আজ আসবে, অথবা কাল আসবে।
প্রকারভেদের সারসংক্ষেপ
গঠন অনুসারে বাক্যের প্রকারভেদ নিচে একটি সারণীতে দেখানো হলো:
| বাক্যের প্রকার | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
|---|---|---|
| সরল বাক্য | একটি কর্তা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া। | সে খেলে। |
| জটিল/মিশ্র বাক্য | একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য। | যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়। |
| যৌগিক বাক্য | দুই বা ততোধিক স্বাধীন খণ্ডবাক্য সংযোজক দ্বারা যুক্ত। | সে এলো এবং আমি গেলাম। |
সাধারণ জিজ্ঞাসা
গঠন অনুসারে বাক্য কয় প্রকার?
গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার: সরল, জটিল বা মিশ্র এবং যৌগিক।
সরল বাক্য কাকে বলে?
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা ও একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
জটিল বাক্য কোনগুলো?
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যৌগিক বাক্য চেনার উপায় কী?
দুই বা ততোধিক স্বাধীন খণ্ডবাক্য যখন ‘এবং’, ‘আর’, ‘কিন্তু’ ইত্যাদি সংযোজক অব্যয় দিয়ে যুক্ত থাকে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

