সমাস কত প্রকার ও কী কী?
অর্থের সাথে সম্পর্কিত একাধিক পদ যখন মিলে একটি নতুন পদ তৈরি করে, তখন তাকে সমাস বলা হয়। এই প্রক্রিয়াটি বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে, সমাস মোট ছয় প্রকার। এই ছয় প্রকার হলো: দ্বন্দ্ব সমাস, কর্মধারয় সমাস, তৎপুরুষ সমাস, বহুব্রীহি সমাস, দ্বিগু সমাস এবং অব্যয়ীভাব সমাস।
তবে, আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ এবং নতুন পাঠ্যপুস্তকগুলোতে সমাসের প্রকারভেদ নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রধান চারটি সমাসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই চারটি প্রধান সমাস হলো: দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ এবং বহুব্রীহি। এই নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী, দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের এবং অব্যয়ীভাব সমাসকে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরীক্ষার জন্য, শিক্ষার্থীদের তাদের নিজ নিজ পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করাই শ্রেয়।
প্রচলিত ছয় প্রকার সমাস
প্রচলিত ব্যাকরণ অনুসারে সমাসের ছয়টি প্রকারভেদ নিচে আলোচনা করা হলো:
- দ্বন্দ্ব সমাস: যে সমাসে প্রত্যেকটি পদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: ‘মা ও বাবা’ মিলে হয় ‘মা-বাবা’।
- কর্মধারয় সমাস: যে সমাসে বিশেষণ বা উপমানবাচক পদের সাথে বিশেষ্য পদের সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: ‘নীল যে অম্বর’ মিলে হয় ‘নীলাম্বর’।
- তৎপুরুষ সমাস: যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: ‘রাজার পুত্র’ মিলে হয় ‘রাজপুত্র’।
- বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ কোনোটিরই অর্থ প্রাধান্য পায় না, বরং উভয় পদের অর্থ দ্বারা ভিন্ন কোনো তৃতীয় অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: ‘দশ আনন যার’ মিলে হয় ‘দশানন’ (রাবণ)।
- দ্বিগু সমাস: যে সমাসে পূর্বপদটি সংখ্যাবাচক বিশেষণ হয় এবং পরপদটি বিশেষ্য হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। যেমন: ‘পঞ্চ যে বটের সমাহার’ মিলে হয় ‘পঞ্চবটী’।
- অব্যয়ীভাব সমাস: যে সমাসে পূর্বপদটি অব্যয় হয় এবং অব্যয়ের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন: ‘প্রতিদিন’ (প্রতি দিন)।
নতুন পাঠ্যসূচিতে সমাসের প্রকারভেদ
আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ ও অনেক নতুন পাঠ্যবইয়ে সমাসের প্রকারভেদকে সরলীকরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে প্রধান চারটি সমাসকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়:
- দ্বন্দ্ব সমাস
- কর্মধারয় সমাস
- তৎপুরুষ সমাস
- বহুব্রীহি সমাস
এই সরলীকৃত পাঠ্যক্রমে, দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের একটি বিশেষ রূপ হিসেবে এবং অব্যয়ীভাব সমাসকে তৎপুরুষ সমাসের একটি অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, দ্বিগু সমাসের সংখ্যাবাচক পদগুলো কর্মধারয় সমাসের বিশেষণের মতো কাজ করে। আবার, অব্যয়ীভাব সমাসে যেহেতু অব্যয় পদটি প্রধান্য পায়, তাই একে তৎপুরুষ সমাসের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয় যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় না।
কর্মধারয় ও তৎপুরুষ সমাসের সাথে সম্পর্ক
কর্মধারয় সমাস: এটি তৎপুরুষ সমাসের একটি উপশ্রেণী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যেখানে পূর্বপদটি বিশেষ্য বা বিশেষণ এবং পরপদটি বিশেষ্য হয়। দ্বিগু সমাস, যা সংখ্যাবাচক শব্দ দিয়ে গঠিত, তাকেও কর্মধারয়ের অধীনে আনা হয় কারণ সংখ্যাবাচক পদগুলো এখানে বিশেষণের ভূমিকা পালন করে।
তৎপুরুষ সমাস: অব্যয়ীভাব সমাসকে তৎপুরুষের অন্তর্ভুক্ত করার কারণ হলো, উভয় ক্ষেত্রেই পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যয় পদটি প্রধান্য পায়, যা পরপদের অর্থকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে।
পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি
শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বোর্ডের নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করা। যদি আপনার পাঠ্যবইয়ে সমাস ছয় প্রকার হিসেবে পড়ানো হয়, তবে সেই অনুযায়ী উত্তর দেওয়া উচিত। আবার, যদি চারটি প্রকারের কথা বলা হয়, তবে সেই নিয়মই মানতে হবে।
faq
-
সমাস কাকে বলে?
অর্থসম্বন্ধযুক্ত একাধিক পদের এক পদে পরিণত হওয়াকে সমাস বলে।
-
বাংলায় সমাস কয় প্রকার?
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে সমাস ছয় প্রকার, তবে নতুন পাঠ্যবইয়ে প্রধান চারটি ধরা হয়।
-
দ্বিগু সমাস কোন সমাসের অন্তর্ভুক্ত?
নতুন পাঠ্যবই অনুসারে, দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়।
-
অব্যয়ীভাব সমাস কোন সমাসের অন্তর্ভুক্ত?
নতুন পাঠ্যবই অনুসারে, অব্যয়ীভাব সমাসকে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়।

