Minimalist architecture photo of an orange building corner with a blue sky background.

কোণ কত প্রকার ও কী কী? পরিমাপ অনুসারে জানুন

শিক্ষা
পরিমাপ অনুসারে কোণ প্রধানত পাঁচ প্রকার: সূক্ষ্মকোণ (০ থেকে ৯০ ডিগ্রির কম), সমকোণ (ঠিক ৯০ ডিগ্রি), স্থূলকোণ (৯০ ডিগ্রির বেশি কিন্তু ১৮০ ডিগ্রির কম), সরলকোণ (ঠিক ১৮০ ডিগ্রি) ও প্রবৃদ্ধ কোণ (১৮০ ডিগ্রির বেশি কিন্তু ৩৬০ ডিগ্রির কম)। দুটি কোণের সমষ্টি ৯০ ডিগ্রি হলে পূরক কোণ এবং ১৮০ ডিগ্রি হলে সম্পূরক কোণ বলা হয়।

কোণ কত প্রকার ও কী কী?

জ্যামিতিতে কোণ হলো দুটি রেখাংশের সাধারণ প্রান্তবিন্দুতে উৎপন্ন আকৃতি। কোণের পরিমাপ ডিগ্রিতে প্রকাশ করা হয়। পরিমাপের ভিত্তিতে কোণকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। এই ভাগগুলো কোণের মান কত তার ওপর নির্ভর করে। যেমন, যে কোণের মান ৯০ ডিগ্রির চেয়ে কম, তাকে বলে সূক্ষ্মকোণ। আবার ঠিক ৯০ ডিগ্রি হলে তাকে বলে সমকোণ। কোণ কত প্রকার ও কী কী, তা আমরা পরিমাপ অনুসারে বিস্তারিতভাবে জানব।

পরিমাপ অনুসারে কোণের প্রকারভেদ

কোণের মান অনুযায়ী এদের বিভিন্ন নামকরণ করা হয়েছে। নিচে এদের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

  • সূক্ষ্মকোণ: যে কোণের পরিমাপ ০ ডিগ্রির চেয়ে বেশি কিন্তু ৯০ ডিগ্রির চেয়ে কম, তাকে সূক্ষ্মকোণ বলে। উদাহরণস্বরূপ, ৩০ ডিগ্রি, ৪৫ ডিগ্রি, ৬০ ডিগ্রি ইত্যাদি সূক্ষ্মকোণ।
  • সমকোণ: যে কোণের পরিমাপ ঠিক ৯০ ডিগ্রি, তাকে সমকোণ বলে। একটি বর্গক্ষেত্র বা আয়তক্ষেত্রের প্রতিটি কোণই সমকোণ।
  • স্থূলকোণ: যে কোণের পরিমাপ ৯০ ডিগ্রির চেয়ে বেশি কিন্তু ১৮০ ডিগ্রির চেয়ে কম, তাকে স্থূলকোণ বলে। উদাহরণস্বরূপ, ১২০ ডিগ্রি, ১৩৫ ডিগ্রি, ১৫৫ ডিগ্রি ইত্যাদি স্থূলকোণ।
  • সরলকোণ: যে কোণের পরিমাপ ঠিক ১৮০ ডিগ্রি, তাকে সরলকোণ বলে। একটি সরলরেখা বরাবর এই কোণটি তৈরি হয়।
  • প্রবৃদ্ধ কোণ: যে কোণের পরিমাপ ১৮০ ডিগ্রির চেয়ে বেশি কিন্তু ৩৬০ ডিগ্রির চেয়ে কম, তাকে প্রবৃদ্ধ কোণ বলে। উদাহরণস্বরূপ, ২১০ ডিগ্রি, ২৫০ ডিগ্রি, ৩৩০ ডিগ্রি ইত্যাদি প্রবৃদ্ধ কোণ।

দুটি কোণের সমষ্টি অনুযায়ী কোণ

দুটি কোণের পরিমাপের যোগফলের ওপর ভিত্তি করে কোণকে আরও দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

  • পূরক কোণ: যদি দুটি কোণের সমষ্টি ঠিক ৯০ ডিগ্রি হয়, তবে কোণ দুটিকে পরস্পর পূরক কোণ বলে। যেমন, ৩০ ডিগ্রি কোণের পূরক কোণ হলো ৬০ ডিগ্রি (৩০° + ৬০° = ৯০°)।
  • সম্পূরক কোণ: যদি দুটি কোণের সমষ্টি ঠিক ১৮০ ডিগ্রি হয়, তবে কোণ দুটিকে পরস্পর সম্পূরক কোণ বলে। যেমন, ১২০ ডিগ্রি কোণের সম্পূরক কোণ হলো ৬০ ডিগ্রি (১২০° + ৬০° = ১৮০°)।

বাস্তব জীবনে কোণের ব্যবহার

কোণের ধারণা আমাদের চারপাশের অনেক কিছু বুঝতে সাহায্য করে। যেমন:

  • স্থাপত্য ও নির্মাণ: বাড়ি, সেতু বা যেকোনো কাঠামো তৈরির সময় কোণের সঠিক ব্যবহার অপরিহার্য। দেয়াল বা ছাদের সংযোগস্থলে সমকোণ ব্যবহার করা হয়।
  • নেভিগেশন: জাহাজ বা বিমান চালনার সময় দিক নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন কোণের ব্যবহার করা হয়।
  • শিল্পকলা: ছবিতে বা ভাস্কর্যে বিভিন্ন কোণ ব্যবহার করে গভীরতা বা Perspektive তৈরি করা হয়।
  • দৈনন্দিন জীবন: চেয়ারে বসার সময় আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে কোণ তৈরি হয়। ঘড়ির কাঁটাগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কোণ তৈরি করে।

কোণ পরিমাপের সারণী

বিভিন্ন প্রকার কোণের একটি সংক্ষিপ্ত সারণী নিচে দেওয়া হলো:

কোণের প্রকার পরিমাপ
সূক্ষ্মকোণ ০° থেকে ৯০° এর কম
সমকোণ ঠিক ৯০°
স্থূলকোণ ৯০° থেকে ১৮০° এর কম
সরলকোণ ঠিক ১৮০°
প্রবৃদ্ধ কোণ ১৮০° থেকে ৩৬০° এর কম
পূরক কোণ (সমষ্টি) ৯০°
সম্পূরক কোণ (সমষ্টি) ১৮০°

সাধারণ জিজ্ঞাসা

সূক্ষ্মকোণ কাকে বলে?
যে কোণের পরিমাপ ০ ডিগ্রির চেয়ে বেশি কিন্তু ৯০ ডিগ্রির চেয়ে কম, তাকে সূক্ষ্মকোণ বলে।

সমকোণ কত ডিগ্রি?
সমকোণ হলো ঠিক ৯০ ডিগ্রি।

পূরক কোণ কী?
দুটি কোণের সমষ্টি যদি ৯০ ডিগ্রি হয়, তবে তাদের পূরক কোণ বলে।

সম্পূরক কোণ কত ডিগ্রি?
দুটি কোণের সমষ্টি ১৮০ ডিগ্রি হলে তাদের সম্পূরক কোণ বলে।

মন্তব্য করুন