রক্তের গ্রুপ কত প্রকার ও কী কী?
আমাদের রক্তের গ্রুপ কত প্রকার, এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই আসে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ABO পদ্ধতিতে রক্তের গ্রুপ মোট চারটি। এই চারটি গ্রুপ হলো A, B, AB এবং O। এই গ্রুপগুলো নির্ধারিত হয় লোহিত রক্তকণিকার উপর উপস্থিত অ্যান্টিজেনের ভিত্তিতে। তবে, শুধু ABO পদ্ধতিতেই রক্তের গ্রুপ শেষ হয়ে যায় না। এর সাথে Rh ফ্যাক্টর নামে আরেকটি বিষয় যুক্ত হয়। Rh ফ্যাক্টর পজিটিভ (+) বা নেগেটিভ (-) হতে পারে। যখন Rh ফ্যাক্টরকে ABO গ্রুপের সাথে মেলানো হয়, তখন রক্তের গ্রুপের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় আটটি। এগুলো হলো: A+, A−, B+, B−, AB+, AB−, O+, এবং O−। রক্তের গ্রুপ জানাটা খুবই জরুরি, বিশেষ করে রক্ত দেওয়ার বা নেওয়ার সময়। ভুল গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করলে তা মারাত্মক হতে পারে।
ABO এবং Rh ফ্যাক্টর: রক্তের গ্রুপের মূল ভিত্তি
১৯০১ সালে বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ABO রক্ত গ্রুপ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এই পদ্ধতিতে রক্তের গ্রুপ নির্ভর করে লোহিত রক্তকণিকার পৃষ্ঠে দুটি প্রধান অ্যান্টিজেন (A এবং B) এবং রক্তরসে দুটি অ্যান্টিবডি (anti-A এবং anti-B) এর উপস্থিতির উপর।
- গ্রুপ A: লোহিত রক্তকণিকায় A অ্যান্টিজেন এবং রক্তরসে anti-B অ্যান্টিবডি থাকে।
- গ্রুপ B: লোহিত রক্তকণিকায় B অ্যান্টিজেন এবং রক্তরসে anti-A অ্যান্টিবডি থাকে।
- গ্রুপ AB: লোহিত রক্তকণিকায় A এবং B উভয় অ্যান্টিজেন থাকে, কিন্তু রক্তরসে কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না।
- গ্রুপ O: লোহিত রক্তকণিকায় কোনো A বা B অ্যান্টিজেন থাকে না, কিন্তু রক্তরসে anti-A এবং anti-B উভয় অ্যান্টিবডি থাকে।
Rh ফ্যাক্টর হলো আরেকটি অ্যান্টিজেন যা লোহিত রক্তকণিকার পৃষ্ঠে থাকতে পারে। যদি Rh অ্যান্টিজেন উপস্থিত থাকে, তবে রক্তের গ্রুপকে Rh পজিটিভ (Rh+) বলা হয়। আর যদি এটি অনুপস্থিত থাকে, তবে Rh নেগেটিভ (Rh−) বলা হয়। Rh ফ্যাক্টর আবিষ্কার করেন কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার এবং আলেকজান্ডার উইনার।
সর্বজনীন দাতা ও গ্রহীতা: রক্তের গ্রুপের গুরুত্ব
রক্তের গ্রুপগুলোর মধ্যে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন, O নেগেটিভ (O−) রক্তের গ্রুপকে ‘সর্বজনীন দাতা’ বলা হয়। এর কারণ হলো, O নেগেটিভ গ্রুপের রক্তে কোনো A, B বা Rh অ্যান্টিজেন থাকে না, তাই এটি প্রায় সকল গ্রুপের মানুষের শরীরে গ্রহণ করা যায়। তবে, জরুরি অবস্থায় এটি ব্যবহার করা হয়, কারণ এটিও সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। অন্যদিকে, AB পজিটিভ (AB+) রক্তের গ্রুপকে ‘সর্বজনীন গ্রহীতা’ বলা হয়। কারণ, AB+ গ্রুপের রক্তে কোনো anti-A বা anti-B অ্যান্টিবডি থাকে না এবং Rh অ্যান্টিজেন উপস্থিত থাকে, তাই তারা A+, A−, B+, B−, AB+, AB−, O+, O− সহ অন্য সব গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে।
রক্তদান ও গ্রহণের আগে যা জানা জরুরি
রক্তদান বা গ্রহণের আগে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করা অপরিহার্য। শুধু রক্তের গ্রুপ জানাই যথেষ্ট নয়, ‘ক্রসম্যাচিং’ বা ‘ম্যাচিং’ পরীক্ষা করাও অত্যন্ত জরুরি। এই পরীক্ষায় দাতার রক্ত এবং গ্রহীতার রক্ত একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিশ্চিত করা হয়। যদি রক্তের গ্রুপ এবং ক্রসম্যাচিং ঠিক না থাকে, তবে গ্রহীতার শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে, যা জীবনঘাতী হতে পারে। তাই, যেকোনো রক্ত প্রদান বা গ্রহণের আগে পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মীর তত্ত্বাবধানে সঠিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।
| ABO গ্রুপ | Rh ফ্যাক্টর | মোট গ্রুপ |
|---|---|---|
| A, B, AB, O | + (পজিটিভ) বা – (নেগেটিভ) | ৮টি (A+, A−, B+, B−, AB+, AB−, O+, O−) |
সাধারণ জিজ্ঞাসা
রক্তের গ্রুপ কয়টি?
ABO পদ্ধতিতে রক্তের গ্রুপ চারটি: A, B, AB ও O। Rh ফ্যাক্টর সহ মোট আটটি গ্রুপ।
O নেগেটিভ রক্তের গ্রুপকে কেন সর্বজনীন দাতা বলা হয়?
O নেগেটিভ রক্তের গ্রুপে কোনো অ্যান্টিজেন না থাকায় এটি প্রায় সকল গ্রুপের মানুষের জন্য গ্রহণীয়।
AB পজিটিভ রক্তের গ্রুপকে কেন সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়?
AB পজিটিভ গ্রুপে কোনো অ্যান্টিবডি না থাকায় এটি প্রায় সকল গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে।
রক্তের গ্রুপ কে আবিষ্কার করেন?
কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৯০১ সালে ABO রক্ত গ্রুপ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

