A young boy in a blue shirt plays with a toy plane indoors, reaching upward enthusiastically.

মিঠাইয়ের স্বপ্ন

গল্পের আসর

মিঠাইয়ের বয়স সাত। সে থাকে বাংলাদেশের এক ছোট্ট মফস্বল শহরে। তার জগৎ জুড়ে ছড়িয়ে আছে তার প্রিয় জিনিসগুলো – তার লাল রঙের বলটা, কার্টুন আঁকা খাতা, রং পেন্সিল আর নানা রকম মিষ্টি। কিন্তু মিঠাইয়ের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো তার মায়ের হাতের তৈরি পায়েস।

প্রতি রাতে শুয়ে শুয়ে মিঠাই স্বপ্ন দেখত। তার স্বপ্নগুলো ছিল তার প্রিয় জিনিসগুলো দিয়ে গড়া এক জাদুর জগৎ। সে দেখত, তার লাল বলটা আকাশে উড়ে যাচ্ছে, ঠিক যেন একটা লাল বেলুন। কার্টুন আঁকা খাতাটা খুলে যাচ্ছে আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে তার প্রিয় কার্টুন চরিত্রগুলো, যারা তার সাথে খেলছে। রং পেন্সিলগুলো জীবন্ত হয়ে তার পাশে নাচানাচি করছে। আর তার মায়ের হাতের পায়েসের গন্ধ ভেসে আসছে মেঘেদের গা ছুঁয়ে।

একদিন সকালে মিঠাই ঘুম থেকে উঠে দেখল, তার ঘরের সব খেলনা জীবন্ত হয়ে উঠেছে। লাল বলটা তার পাশে গড়িয়ে গড়িয়ে আসছে, কার্টুন খাতাটা খুলে তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। রং পেন্সিলগুলো টেবিলের উপর দিয়ে দৌড়াচ্ছে। মিঠাইয়ের আনন্দ আর ধরে না। সে ভাবল, এটা নিশ্চয়ই তার রাতের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে!

মিঠাই তার সব খেলনা আর মিষ্টি নিয়ে বাড়ির পেছনের পুকুর পাড়ে গেল। সে ভাবল, এই সুন্দর জিনিসগুলো নিয়ে সে একটা নতুন জগৎ তৈরি করবে। সে তার লাল বলটাকে পুকুরের মাঝখানে ভাসিয়ে দিল, যেন সেটা একটা ছোট্ট দ্বীপ। কার্টুন খাতাটাকে পাশে রেখে সে তার প্রিয় কার্টুন চরিত্রদের সেখানে বসতে বলল। রং পেন্সিলগুলো দিয়ে সে পুকুরের ধারে নানা ছবি আঁকতে শুরু করল। আর মায়ের তৈরি পায়েসের বাটিটা রাখল সেই বলের দ্বীপে, যেন ওটা এক জাদুর ভোজের আয়োজন।

হঠাৎ, পুকুরের জল থেকে উঠে এলো এক জলপরী। তার হাতে ছিল এক মস্ত বড় শাপলা ফুল। সে মিঠাইকে বলল, “তোমার এই সুন্দর জগৎ দেখে আমি মুগ্ধ। আমি তোমাকে একটা বর দেব।” মিঠাই একটু ভেবে বলল, “আমি চাই আমার এই জাদুর জগৎ যেন সবসময় এমন সুন্দর থাকে, আর আমার বন্ধুরা যেন এখানে এসে আনন্দ করতে পারে।”

জলপরী হেসে বলল, “তোমার এই ইচ্ছে খুব ভালো। তোমার কল্পনার শক্তি অনেক। তুমি যা কিছু ভালোবাসো, তা দিয়ে তুমি এক সুন্দর জগৎ তৈরি করতে পারো। শুধু মনে রেখো, এই জগৎকে সবসময় যত্ন করতে হবে।” এই বলে জলপরী আবার জলে মিলিয়ে গেল।

মিঠাই সেদিন বুঝল, তার স্বপ্নগুলো আসলে তার নিজের মনের ভেতরের শক্তি। সে যা ভালোবাসে, যা নিয়ে আনন্দ পায়, তা দিয়ে সে নিজেই এক সুন্দর জগৎ তৈরি করতে পারে। তার খেলনা, তার বই, তার আঁকা ছবি – সবকিছুই তার কাছে জাদুর মতো। আর মায়ের হাতের পায়েসের মতো মিষ্টি আর কিছু নেই। সেই থেকে মিঠাই তার কল্পনার জগৎকে আরও সুন্দর করে তুলল, আর তার বন্ধুদেরও সেই জাদুর জগতে আমন্ত্রণ জানাল। তারা একসাথে খেলত, আঁকত আর ভাগ করে নিত মিঠাইয়ের প্রিয় পায়েস।

মন্তব্য করুন