A senior adult using a wrist blood pressure monitor at home, focusing on health management.

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত? আদর্শ মাত্রা জানুন

স্বাস্থ্য সেবা
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ (mmHg) বা তার কিছু কম। ওপরের সংখ্যাটি সিস্টোলিক চাপ এবং নিচের সংখ্যাটি ডায়াস্টোলিক চাপ নির্দেশ করে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ সাধারণত ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ (mmHg) বা তার কিছু কম থাকে। এই দুটি সংখ্যা রক্তচাপের দুটি ভিন্ন অবস্থা বোঝায়। ওপরের সংখ্যাটি, অর্থাৎ ১২০, হলো সিস্টোলিক চাপ। এটি হলো সেই চাপ যখন আপনার হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হয় এবং রক্ত পাম্প করে ধমনীতে পাঠায়। নিচের সংখ্যাটি, অর্থাৎ ৮০, হলো ডায়াস্টোলিক চাপ। এটি হলো সেই চাপ যখন আপনার হৃৎপিণ্ড প্রসারিত হয় এবং রক্তে পূর্ণ হয়, তখন ধমনীতে যে চাপ থাকে। এই দুটি উপাদানের সঠিক পরিমাপ আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

স্বাভাবিক রক্তচাপের মাত্রা

সাধারণভাবে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের জন্য আদর্শ রক্তচাপ ১২০/৮০ mmHg বা তার চেয়ে কম বলে বিবেচিত হয়। তবে, রক্তচাপ সময়ের সাথে সাথে এবং বিভিন্ন শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

শ্রেণী সিস্টোলিক (mmHg) ডায়াস্টোলিক (mmHg)
স্বাভাবিক ১২০ এর নিচে ৮০ এর নিচে
উচ্চ স্বাভাবিক ১২০-১২৯ ৮০-৮৯
উচ্চ রক্তচাপ (পর্যায় ১) ১৩০-১৩৯ ৯০-৯৯
উচ্চ রক্তচাপ (পর্যায় ২) ১৪০ বা তার বেশি ১০০ বা তার বেশি
হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিস (জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন) ১৮০ বা তার বেশি ১২০ বা তার বেশি

উপরের সারণীটি রক্তচাপের বিভিন্ন পর্যায় নির্দেশ করে। এটি মনে রাখা জরুরি যে, একবারের মাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। রক্তচাপ নিয়মিতভাবে এবং বিশ্রামের পর একাধিকবার পরিমাপ করা উচিত। যদি বারবার মাপে ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি ধরা পড়ে, তবে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, যদি রক্তচাপ ৯০/৬০ mmHg-এর নিচে নেমে যায়, তবে তা নিম্ন রক্তচাপ নির্দেশ করতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন)

যখন রক্তচাপ দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি থাকে, তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলা হয়। সাধারণত, ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি রক্তচাপকে উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয়। উচ্চ রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ সবসময় নাও দেখা যেতে পারে, তাই একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

নিম্ন রক্তচাপ (হাইপোটেনশন)

যখন রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম থাকে, তখন তাকে নিম্ন রক্তচাপ বা হাইপোটেনশন বলে। সাধারণত, ৯০/৬০ mmHg-এর নিচে রক্তচাপকে নিম্ন রক্তচাপ ধরা হয়। কিছু মানুষের জন্য এটি স্বাভাবিক হতে পারে এবং কোনো সমস্যা সৃষ্টি নাও করতে পারে। তবে, হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেলে মাথা ঘোরা, ঝিমুনি, চোখে অন্ধকার দেখা, বমি বমি ভাব বা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত ​​সরবরাহ না হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

রক্তচাপ মাপার সঠিক পদ্ধতি

সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। রক্তচাপ মাপার আগে অন্তত ৫ মিনিট শান্তভাবে বসে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। এই সময়ে কথা বলা বা নড়াচড়া করা উচিত নয়। রক্তচাপ মাপার যন্ত্রটি (যেমন রক্তচাপ মনিটর) সঠিক উচ্চতায় রাখা উচিত এবং বাহুর চারপাশে সঠিকভাবে লাগানো উচিত। ক্যাফেইন বা ধূমপান করার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করা উচিত। একবারের মাপে সিদ্ধান্তে না এসে, দিনের বিভিন্ন সময়ে এবং কয়েকদিন ধরে রক্তচাপ মাপা উচিত, বিশেষ করে যদি রক্তচাপের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা কম মনে হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

স্বাভাবিক রক্তচাপ কত?
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ প্রায় ১২০/৮০ mmHg বা তার কিছু কম।

উচ্চ রক্তচাপ কখন ধরা হয়?
বারবার মাপে ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি হলে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয়।

নিম্ন রক্তচাপ কখন ধরা হয়?
৯০/৬০ mmHg-এর নিচে রক্তচাপ থাকলে তা নিম্ন রক্তচাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

রক্তচাপ কি একবার মেপেই জানা যায়?
না, একবারের মাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বিশ্রামের পর একাধিকবার মাপতে হয়।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

মন্তব্য করুন