A surreal scene with a woman in a golden frame, blending into an Estonian wheat field.

বিশ্বরেকর্ড: আজব সব কান্ড ঘটিয়ে মানুষের অধ্যবসায়

বিশ্ব রেকর্ড




প্রথম আলো ম্যাগাজিন – বিশ্বরেকর্ড: আজব সব কান্ড ঘটিয়ে মানুষের অধ্যবসায়


বিশ্বরেকর্ড: আজব সব কান্ড ঘটিয়ে মানুষের অধ্যবসায়

ভাবুন তো, একটা মগ ভর্তি জল নিয়ে প্রায় 100 মিটার দৌড়াতে হবে, তাও আবার মাথার ওপর! শুনেই মনে হবে অসম্ভব, তাই না? কিন্তু এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন এক ব্যক্তি, যিনি 2023 সালে 99.73 মিটার দূরত্ব হেঁটে এই অবিশ্বাস্য কীর্তি স্থাপন করেছেন। শুধু তাই নয়, এমন আরও হাজারো আজব সব কান্ড রয়েছে যা মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায়ের প্রমাণ দেয়। আজ আমরা এমন কিছু গল্প শুনব যা আপনার মনে প্রশ্ন জাগাবে, “মানুষ কি না পারে!”

এক মুঠো বালি, হাজারো ঘণ্টা!

আপনার কি মনে আছে ছোটবেলায় বালির দুর্গ বানানোর কথা? সেই খেলাটাই যখন নেশা হয়ে দাঁড়ায়, তখন কী হতে পারে? ওয়াল্টার পোন্টিনো নামের এক ইতালীয় শিল্পী 2017 সালে 650 টন বালি ব্যবহার করে 17 মিটার উঁচু এক অসাধারণ ভাস্কর্য তৈরি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই ভাস্কর্য তৈরিতে তিনি 1000 ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করেছিলেন! প্রতিটি বালুকণা যেন তার ধৈর্য আর সৃষ্টিশীলতার একেকটি সাক্ষ্য। আমরা যখন বড় হয়ে যাই, তখন বালির দুর্গ বানানো ভুলে যাই। কিন্তু ওয়াল্টারের মতো মানুষেরা প্রমাণ করে দেন, ভেতরের শিশুটা যখন জেগে থাকে, তখন অসম্ভবও সম্ভব হয়। ভাবুন তো, কত ধৈর্য লেগেছে এই কাজটি করতে!

একটু একটু করে, মহাকাশ জয়!

ছোটবেলায় আমরা যেমন পেন্সিল দিয়ে আঁকিবুঁকি কাটতে কাটতে বড় হই, তেমনি কিছু মানুষ তাদের জীবন উৎসর্গ করেন এক একটি বিশেষ লক্ষ্য পূরণের জন্য। লিলিয়ান ওয়েবস্টার নামের এক মার্কিন মহিলা 100 বছর ধরে প্রতিদিন 100 টি করে কাগজ প্লেন তৈরি করে রেকর্ড গড়েছেন! 100 বছর! ভাবা যায়? শুধু প্লেন তৈরি করাই নয়, এই প্লেনগুলো তিনি বিভিন্ন দাতব্য কাজেও ব্যবহার করতেন। তার এই দীর্ঘ সময়ের সাধনা আমাদের শেখায় যে, কোনো কিছুই রাতারাতি হয় না। প্রতিটি বড় অর্জনের পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টা। আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজগুলোই একদিন বড় কিছু তৈরি করে!

শব্দ নয়, সুর!

পৃথিবীতে বহু সুরকার আছেন যারা তাদের সুর দিয়ে মন জয় করেছেন। কিন্তু সুর তৈরির জন্য যদি 24 ঘণ্টা ধরে শুধু ঠোঁট দিয়ে ‘টুং’ শব্দ করতে হয়? হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! রবার্ট ওয়াটস নামের এক ব্যক্তি 2019 সালে 24 ঘণ্টা ধরে অবিরাম ‘টুং’ শব্দ করে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন। এই শব্দের উদ্দেশ্য ছিল একটি বিশেষ যন্ত্রকে সচল রাখা। যদিও কাজটি শুনতে খুবই সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু একটানা 24 ঘণ্টা একই কাজ করা, বিশেষ করে যখন তা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য, তা কতটা কঠিন তা আমরা হয়তো কল্পনাও করতে পারব না। এটা যেন ঘন্টার পর ঘন্টা একটানা সাইকেল চালানোর মতো, কিন্তু এখানে একটু বিরতি নিলেই সব শেষ!

অবিশ্বাস্য স্মৃতিশক্তি: 331 টি সংখ্যা!

আমাদের অনেকেরই হয়তো ফোন নম্বর মনে রাখতে কষ্ট হয়। কিন্তু যদি কেউ 565 টিরও বেশি নতুন ফোন নম্বর একবার শুনেই মনে রাখতে পারে? সুমন শর্মা নামের এই ভারতীয় ভদ্রমহিলা 2015 সালে এই অবিশ্বাস্য কীর্তি স্থাপন করেন। একবার শুনেই 565টি নম্বর মনে রাখা মানে, যেন একটা পুরো লাইব্রেরির প্রত্যেকটা বইয়ের নাম মুখস্থ করে ফেলা! এটা আমাদের মস্তিষ্কের অপার সম্ভাবনার এক ছোট্ট উদাহরণ। আমরা হয়তো সবাই সুমন শর্মার মতো হতে পারব না, কিন্তু আমাদের নিজেদের স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর চেষ্টা তো করতেই পারি, তাই না?

এক টুকরো পাথর, এক জীবন!

আমরা যখন কোনো শখ পূরণ করি, তখন তা আমাদের আনন্দ দেয়। কিন্তু সেই শখ যদি হয় এক টুকরো পাথর দিয়ে 100 টিরও বেশি ছবি আঁকা? ফার্নান্ডো স্যালিস নামের এই ব্রাজিলিয়ান শিল্পী 2010 সালে তার এই ব্যতিক্রমী প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। পাথরগুলো তিনি সংগ্রহ করতেন, তারপর সেগুলোকে ক্যানভাস বানিয়ে তুলতেন অসাধারণ সব চিত্রকর্ম। ভাবুন তো, কত সূক্ষ্ম কাজ করতে হয়েছে তাকে। প্রতিটি পাথর যেন তার ক্যানভাস, আর রং দিয়ে তিনি সেখানে জীবন ফুটিয়ে তুলতেন। আমরা হয়তো ছবি আঁকি কাগজে, কিন্তু ফার্নান্ডোর মতো মানুষেরা প্রকৃতির উপাদানকেও শিল্পে রূপ দিতে পারে!

শেষ কথা: স্বপ্ন দেখুন, চেষ্টা করুন!

এই সব গল্পগুলো কি আপনাকে একটু হলেও অবাক করেছে? হয়তো মনে হচ্ছে, এরা কি অন্য গ্রহের মানুষ? না, তারা আমাদেরই মতো সাধারণ মানুষ, কিন্তু তাদের ভেতরে ছিল এক অদম্য জেদ, এক অসম স্বপ্ন পূরণের তাগিদ। তারা প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা বা বাহ্যিক প্রতিকূলতা কোনো কিছুই মানুষের ইচ্ছাশক্তির কাছে বাধা নয়। আজব সব কান্ড হয়তো অনেক, কিন্তু তার পেছনের মূল শক্তিটা কিন্তু একটাই – মানুষের অধ্যবসায়। জীবনে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়, যদি আপনি স্বপ্ন দেখতে জানেন এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকেন। তাই, আজই শুরু করুন আপনার নিজের ‘আজব’ কিছু করার!


মন্তব্য করুন