পৃথিবীর পরিধি ও ব্যাস কত কিলোমিটার, এই প্রশ্নটি প্রায়শই আমাদের মনে আসে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, পৃথিবীর পরিধি বলতে এর চারপাশের মোট দৈর্ঘ্য বোঝায়, আর ব্যাস হলো এর কেন্দ্র ভেদ করে যাওয়া সরলরেখা যা দুই প্রান্তকে যুক্ত করে। তবে পৃথিবী কিন্তু পুরোপুরি গোলাকার নয়। এটি মেরু অঞ্চলে কিছুটা চাপা এবং বিষুব অঞ্চলে কিছুটা স্ফীত। তাই এর পরিধি ও ব্যাস দুই রকম।
পৃথিবীর পরিধি কত কিলোমিটার?
পৃথিবীর পরিধি দুটি প্রধান মাপে পরিমাপ করা হয়:
- বিষুবরেখা বরাবর পরিধি: এটি পৃথিবীর সবচেয়ে চওড়া অংশ বরাবর পরিধি। এই পরিধি প্রায় ৪০,০৭৫ কিলোমিটার।
- মেরু বরাবর পরিধি: এটি উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত পরিধি, যা পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণ অক্ষ বরাবর মাপা হয়। এই পরিধি প্রায় ৪০,০০৮ কিলোমিটার।
সুতরাং, পৃথিবীর পরিধি প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি। এই বিশাল দূরত্ব কল্পনা করা কঠিন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি একটি গাড়িতে করে এই পরিধি বরাবর একটানা ভ্রমণ করেন, তবে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১০০ কিলোমিটার বেগে চললে প্রায় ১৬ দিন সময় লাগবে।
পৃথিবীর ব্যাস কত কিলোমিটার?
পৃথিবীর ব্যাসও তার আকৃতির কারণে দুই রকম:
- বিষুবীয় ব্যাস: এটি বিষুবরেখা বরাবর পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে যাওয়া সরলরেখার দৈর্ঘ্য। এটি প্রায় ১২,৭৫৬ কিলোমিটার।
- মেরু ব্যাস: এটি উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে যাওয়া সরলরেখার দৈর্ঘ্য। এটি প্রায় ১২,৭১৪ কিলোমিটার।
দেখা যাচ্ছে, বিষুবীয় ব্যাস মেরু ব্যাসের চেয়ে প্রায় ৪২ কিলোমিটার বেশি। এই পার্থক্যই প্রমাণ করে যে পৃথিবী মেরু অঞ্চলে কিছুটা চাপা এবং বিষুব অঞ্চলে কিছুটা ফোলা। এই আকৃতিকে বলা হয় অভিগোলক (Oblate Spheroid)।
পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ
পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৩৭১ কিলোমিটার। ব্যাসার্ধ হলো কেন্দ্র থেকে পরিধি পর্যন্ত দূরত্ব। যেহেতু পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১২,৭৫৬ কিলোমিটার, তাই এর অর্ধেক করলে গড় ব্যাসার্ধ পাওয়া যায়। এই গড় ব্যাসার্ধ মহাকাশ গবেষণা এবং পৃথিবীর বিভিন্ন মডেল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পৃথিবীর আকৃতি কেন এমন?
পৃথিবীর এই বিশেষ আকৃতির প্রধান কারণ হলো এর ঘূর্ণন। পৃথিবী যখন সৃষ্টি হয়েছিল, তখন এটি গলিত অবস্থায় ছিল এবং দ্রুত ঘুরছিল। কেন্দ্রাতিগ বলের (Centrifugal force) প্রভাবে এর বিষুবীয় অঞ্চল বাইরের দিকে প্রসারিত হতে শুরু করে এবং মেরু অঞ্চলগুলো কিছুটা সংকুচিত হয়ে যায়। এই ঘূর্ণন প্রক্রিয়া আজও পৃথিবীর আকৃতিতে প্রভাব ফেলে, যদিও তার পরিমাণ খুবই সামান্য। এই কারণেই পৃথিবীর পরিধি ও ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।
পৃথিবীর পরিধি ও ব্যাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য
| মাপ | দূরত্ব (কিলোমিটার) | বর্ণনা |
|---|---|---|
| বিষুবীয় পরিধি | ৪০,০৭৫ | পৃথিবীর চারপাশের সবচেয়ে বড় পরিধি |
| মেরু পরিধি | ৪০,০০৮ | উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত পরিধি |
| বিষুবীয় ব্যাস | ১২,৭৫৬ | বিষুবরেখা বরাবর কেন্দ্র ভেদকারী সরলরেখা |
| মেরু ব্যাস | ১২,৭১৪ | উত্তর-দক্ষিণ মেরু বরাবর কেন্দ্র ভেদকারী সরলরেখা |
| গড় ব্যাসার্ধ | ৬,৩৭১ | পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে পৃষ্ঠের গড় দূরত্ব |
সাধারণ জিজ্ঞাসা
পৃথিবীর পরিধি কত?
পৃথিবীর পরিধি বিষুবরেখা বরাবর প্রায় ৪০,০৭৫ কিলোমিটার এবং মেরু বরাবর প্রায় ৪০,০০৮ কিলোমিটার।
পৃথিবীর ব্যাস কত কিলোমিটার?
পৃথিবীর বিষুবীয় ব্যাস প্রায় ১২,৭৫৬ কিমি এবং মেরু ব্যাস প্রায় ১২,৭১৪ কিমি।
পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ কত?
পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৩৭১ কিলোমিটার।
পৃথিবী কি পুরোপুরি গোল?
না, পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়। এটি মেরুর দিকে কিছুটা চাপা এবং বিষুব অঞ্চলের দিকে কিছুটা স্ফীত।

