ন্যানো টেকনোলজি পাল্টে দেবে আমাদের ভবিষ্যৎ

তথ্য ও প্রযুক্তি

ভবিষ্যতে মানুষ যে বাড়ি তৈরি করবে সেই বাড়ির বাইরের দেয়ালে যে রং করা হবে, সেই রং গুলো সোলার প্যানেল হিসেবে কাজ করবে এবং ওই বাড়িতে ব্যবহার করা ইট গুলো এক একটি ব্যাটারি হিসেবে কাজ করবে। এটা শুনতে অবাক লাগলেও আমরা কিন্তু সেই সব থেকে বেশি দূরে নেই আর এই সবই হতে চলেছে ন্যানো টেকনোলজির মাধ্যমে।

 

পৃথিবী তো আগের মতোই আছে কিন্তু আমাদের কাছে যেন পৃথিবী ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যাচ্ছে। এই পৃথিবীতে একটা গভীর এবং এক্সপ্লোর জগত আছে, যেটা মানুষের চোখে ধরা পরে না আর সেটা হলো মাইক্রোস্কোপিক জগত। মাইক্রোস্কোপিক জগতের সত্তি ক্ষমতা আছে  আমাদের আশ্চর্য করে দেওয়ার মত। কিন্তু আজকে আমরা মাইক্রোস্কোপিক জগৎ এর থেকেও আরো গভীরে যাবো। আমরা ন্যানো স্কোপিক জগতকে জানার চেষ্টা করব। আমরা যেসব বস্তু নিয়ে কাজ করি, এই ন্যানো স্কোপিক জগৎ তা থেকে কয়েক বিলিয়ন গুন ছোট আর এটাই হলো ন্যানো টেকনোলজি।

ন্যানো টেকনোলজি মানে টেকনোলজি যেটাকে ন্যানো স্কেলে ডেভেলপ করা হয়েছে এবং যার ব্যবহার আমরা বাস্তব জীবনে করতে পারি। এর মানে হলো অনেক ক্ষুদ্র বস্তুকে জানা এবং তাদেরকে ইঞ্জিনিয়ারড করা। ন্যানো টেকনোলজি আমাদের বোঝায় যে এই ইউনিভার্স একচুয়ালি কাজ কিভাবে করে তা ছাড়াও ন্যানো টেকনোলজির সাহায্যে আমরা অনেক ইন্টারেস্টিং কাজ করতে পারি। আমরা যখন এই ন্যানো স্কেলে প্রবেশ করি, তখন আমরা ফিজিক্সের সেই সমস্ত জায়গাতে কাজ করতে পারি যেটা নরমালি পসেবল নয়।  এটাও মনে করা হয় যে ন্যানো সায়েন্স এবং ন্যানোটেকনোলজি আমাদের আশেপাশের পরিবেশকে কমপ্লিটলি চেঞ্জ করে দিতে পারে। পৃথিবীতে সমস্ত কিছুই অনু দিয়ে তৈরি। আমরা যা খাই, যে কাপড়টা আমরা যা পড়ি, যে বাড়িতে আমরা থাকি এমনকি আমাদের নিজেদের শরীরও সবই অনু দিয়েই তৈরি।

এবার একবার কল্পনা করে দেখুন একটি গাড়ি কিভাবে কাজ করে। শুধুমাত্র গাড়ির ইঞ্জিন এর পার্টস গুলো থাকলেই হয় না, সেগুলো কে সঠিক জায়গামতো এবং সঠিক স্টেপে কাজ করতে হয়। তবেই একটা গাড়ি চলতে পারে। ঠিক একই ভাবে আপনার আশেপাশে যে সমস্ত বস্তু আছে সেগুলো যে অনু দিয়ে তৈরি হয়েছে, ওই অনুগুলো যেভাবে আছে অর্থাৎ যেভাবে অ্যারেঞ্জ করা আছ্‌ সেটাই ঠিক করে যে ওই বস্তুটা কী কাজ করবে।

ন্যানোটেকনোলজি কে ব্যবহার করে আমরা অনু-পরমানু ম্যানেজমেন্টকে ম্যানুপুলেট করতে পারব এবং আমাদের ইচ্ছামত সেই জিনিস গুলো কে কাজে লাগাতে পারব। ঠিক যেভাবে একই ধরনের ইট বালি সিমেন্ট কে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের বাড়ি তৈরি করা যায়। শুনতে সিম্পল লাগলেও কিন্তু আসলে ব্যাপারটা এতটাও সিম্পল নয়। কারণ কোনো বস্তুর প্রর্পার্টিও চেঞ্জ হয়ে যায় যখন সেটাকে ছোট করা হয় যাকে কোয়ান্টাম এফেক্টস বলা হয়ে থাকে। এই কোয়ান্টাম এফেক্টস ডিসাইড করে কোন বস্তুকে খুবই ছোট করলে তাদের অ্যাটিটিউড বা আচরণ কি ধরণের হতে পারে। অতএব এই কোয়ান্টাম এফেক্টস কে কাজে লাগিয়ে আমরা বুঝতে পারি যে কোন পদার্থ ন্যানো স্কেলে কিভাবে কাজ করবে।

এই ন্যানো টেকনোলজীকে ব্যবহার করেই এমন রং তৈরি করা যেতে পারে যে রং কে আপনি আপনার বাড়ির বাইরে লাগালে সেটা সোলার প্যানেল হিসেবে কাজ করতে পারে আর আপনার পুরো বাড়িটাই সোলার এনার্জিকে ইলেকট্রিক্যাল এনার্জিতে কনভার্ট করতে পারে। কিছু সায়েন্সটিস্ট এই টেকনোলজি কে ব্যবহার করে সোলার কৃষ্টালও তৈরী করেছে যেটাকে কোন লিকুইড এর মধ্যে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এই ন্যানো ক্রিস্টালকে একটি ম্যাটারিয়াল দিয়ে তৈরি করা হয়, যেটা হল ক্যাডমিয়া্‌ যেটা একটা খুবই টক্সিক মেটাল। এটি একটি বিষাক্ত ধাতু, এজন্য এই রংকে বাজারে বিক্রি করার জন্য কোন গভারমেন্ট পারমিশন দেবেনা। তাই বৈজ্ঞানিকরা একটা নতুন কোন পদার্থ খুজছে যার সাহায্যে এই রংকে বানানো যেতে পারে এবং যা সাধারণ মানুষের কাছে একেবারে হার্মলেস হবে।

তাহলে আপনার বাড়ি সম্পূর্ণ সোলার প্যানেল হিসেবে কাজ করতে পারে কিন্তু আপনি ওই এনার্জিকে স্টোর করবেন কোথায় এর জন্য একটা স্পেশাল ব্যবস্থা আছে। ন্যানো টেকনোলজিকে ব্যবহার করে কোন ইটকে এমন ভাবে তৈরি করা যেতে পারে যে সেই ইট ব্যাটারি হিসেবে কাজ করবে। আর এই টেকনোলজিকে বলা হয় রাস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভেইপারফেজ পলিমারাইজেশন। এই টেকনোলজিটা ডেভেলপমেন্টের আর্লি স্টেজে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *